আজকে তোমাদের এইচ.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে। আমারও এরকম সময়ে রেজাল্ট বের হবে হবে করছিল। আমি যৌথ পরিবারের মাঝারি ধরনের বাণিজ্যের পরীক্ষার্থী ছিলাম। আমার রেজাল্ট নিয়ে উচ্চাকাঙ্খা ছিল না শুধু পাস আর ৭০% ভাগ নম্বর পেলে অন্ততপক্ষে ভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ মিলতে পারে।

যাই হোক সকালটা শুরু হয়েছিল দেরি করে ঘুম থেকে উঠে। আম্মা ঘন ঘন জায়নামাজে বসছিলেন। আমরা দোতালায় থাকতাম। দাদী নিচতলায়। বড়চাচা আমাদের পাশের সাইডে। মেজো ফুপু চারতলায়।

বরাবরের মতন আমি ঘুম থেকে দেরী করে উঠলাম ঘড়ির কাটা প্রায় বারোটা ছুঁইছুঁই করছিলো। নাস্তা করে বের হলাম আমাদের পরিবারের সবার দোয়া নিতে। মা নাস্তা দিতে দিতে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিলেন। খেয়াল করলাম, মা’র চোখ লাল আমার টেনশনে ঘুমান নি। বাবা সকাল সকাল অফিস চলে গিয়েছেন। বাবার ছাড়া আমাদের তখন মোবাইল ফোন ছিল না। বাবা তাই ঘনঘন আমাদের ল্যান্ডফোনে কল দিয়ে মা’র কাছ থেকে আপডেট নিচ্ছিলেন। মা আমাকে ভরসা দিয়ে বলেছিলেন,
– রেজাল্ট যাই হোক না কেন শুকরিয়া আদায় করবি। খুব খারাপ হলে মনোকষ্ট নিস না। পরেরবার ভালো করবি।
অতঃপর বড়চাচা আদর করে দিলেন। চারতলার মেজো ফুপু কপালে চুমু দিয়ে দোয়া পড়ে দিলেন। দীদার কাছে গেলাম। দীদা আগেভাগে মিষ্টি খাইয়ে দিয়ে বললেন,
– আমাদের গুষ্টিতে কোন ফেল নাই, তুই ঠিকঠাক মতন পাস করবি। আগেই মিষ্টি খেয়ে নে রেজাল্টতো ভালো হবে।

বিকালে রেজাল্ট বেরুলো প্রত্যাশিত ফলাফল ছিল। বাড়িতে জানালাম এক বন্ধুর মোবাইল ফোন থেকে কল করে। মা শুকরিয়া আদায় করে রাতের জন্য বিরিয়ানী রাঁধতে লাগলেন।

আমার রেজাল্ট যাই হোক না কেন সবাই আমাকে মানসিকভাবে ভরসা দিয়েছিলেন এমন কি আমি অকৃতকার্য হলেও তারা মেনে নিয়ে আরো চেষ্টা করতেন। আমি খুব ভাগ্যবান আমাকে বুঝতে পারে এমন একটা পরিবারে আমি জন্মেছি। এমন সৌভাগ্য সবার হয় না।

সকল অভিভাবকের কাছে বিশেষ অনুরোধ নিজের সন্তানকে ভালোবাসুন, শাসন করুন, বন্ধুর মতন করে বুঝতে চেষ্টা করুন। একটা সময় সন্তান আপনাকে অফুরন্ত সুখ প্রতিদান হিসেবে ভরিয়ে দিবে। সন্তানের উপর ভরসা রাখুন, সন্তানকে বুঝিয়ে দিন, মাথার উপর ছায়া নামক ভরসা আছে তাই কোন কিছু হারানোর ভয় নাই।

#অ_আ_এলোমেলো_চিন্তা

Share

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »